অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রজন্মের সামনে যে বাস্তবতা

  

অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রজন্মের সামনে যে বাস্তবতা



২০২৪ সালের ১ জুলাই গঠিত ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হয়। ২ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলন প্রবল আকার নেয়। ৭ জুলাই ঢাকায় গণপরিবহন বন্ধ এবং সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি “বাংলা ব্লকেড” নামে পরিচিত হয়, যা চলাকালীন শুধুমাত্র মেট্রোরেল চলতে থাকে। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার মুখোমুখি হয়। ১৪ জুলাই আন্দোলনকারীরা গণপদযাত্রার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বলে আখ্যায়িত করেন, যা আন্দোলনকারীদের মাঝে কঠোর প্রতিবাদের জন্ম দেয়। ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগ ও সরকারের কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে। আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানায়, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি নেবে। ১৭ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়।

১৯ জুলাই সারাদেশে সর্বাত্মক অবরোধের সময় নাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়। একই সময়ে সরকারের প্রতিনিধি ও আন্দোলন নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়, তবে নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ২১ জুলাই আন্দোলনের একটি অংশ ‘৯ দফা’ দাবিতে শাটডাউন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, আর ২২ জুলাই নাহিদ ইসলাম চার দফা দাবিতে শাটডাউন স্থগিত করেন।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজনকে আটক ও নিখোঁজ করার ঘটনা ঘটে। ২৬ ও ২৭ জুলাই বিভিন্ন সমন্বয়ককে গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়া হয়। ২৮ জুলাই পুলিশের চাপের মুখে কিছু নেতারা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন, যা অন্যরা সরকারী দমনের একটি চাপ হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ নামে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

আগস্টে আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ডাক দেওয়া হয়। ৩ আগস্ট নাহিদ ইসলাম সরকার পদত্যাগের দাবিতে এক দফা আন্দোলন ঘোষণা করেন। ৫ আগস্ট লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির সময় ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে, যেখানে ১০৮ জন নিহত হন। একই দিনে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে এবং দেশ থেকে পালিয়ে যান, যা তার দীর্ঘ শাসনের সমাপ্তি ঘোষণা করে।

এরপর সেনাপ্রধান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন, যার প্রধান হয়েন মুহাম্মদ ইউনূস। এতে আন্দোলনের সমন্বয়করা উপদেষ্টারূপে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের অক্টোবর ও ২০২৫ সালের জুনে আন্দোলনের নতুন নেতৃত্ব ও কমিটি গঠন করা হয়।







Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

এআই প্রযুক্তির কারণে মাইক্রোসফট বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে। জানুন এর পেছনের কারণ ও প্রভাব।